দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন ব্যবস্থা ডিজিটাল করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রাথমিকভাবে দেশের ১০টি জেলার ১০টি উপজেলার ১০২টি ইউনিয়নে অনলাইনে বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন কার্যক্রম চালু করা হবে।
‘সিভিল রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ভাইটাল স্ট্যাটিসটিক্স: বিয়ে ও তালাক নিবন্ধনের আইসিটি অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। এ বিষয়ে আইন ও বিচার বিভাগের সঙ্গে ব্র্যাকের একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর হয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, অনলাইন বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন ব্যবস্থার সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) এবং জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন ডাটাবেজের আন্তঃসংযোগ করা হবে। এর মাধ্যমে বর-কনের পরিচয় ও বয়স যাচাই করা যাবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, নারীর বয়স ১৮ বছর এবং পুরুষের বয়স ২১ বছর পূর্ণ না হলে বিয়ে নিবন্ধন করা যাবে না।
পাইলট প্রকল্পের জন্য গাজীপুরের কালীগঞ্জ, গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া, শেরপুরের ঝিনাইগাতী, কুড়িগ্রাম সদর, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, নড়াইল সদর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা, সিলেট সদর, কক্সবাজারের চকরিয়া ও কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাচিত করা হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় রিয়েল টাইম কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ, ডাটা সেন্টার ও ব্যাকআপ ব্যবস্থা, অনলাইন নিবন্ধন সফটওয়্যার এবং নিকাহ রেজিস্ট্রারদের প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রযুক্তি সরঞ্জাম দেওয়া হবে। এর ফলে বিয়ে ও তালাকের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে সংরক্ষণ এবং দ্রুত ডিজিটাল সনদ দেওয়ার ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, অনলাইন বিয়ে নিবন্ধন সফটওয়্যার উন্নয়নের কাজ প্রায় ৯৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। ন্যাশনাল ডাটা সেন্টার থেকে ক্লাউড সার্ভার বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন এবং এনআইডি ডাটাবেজের সঙ্গে এপিআই সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি সোনালী ব্যাংকের পেমেন্ট গেটওয়ে ও বায়োমেট্রিক ডিভাইস পরীক্ষামূলকভাবে সংযুক্ত করা হয়েছে।
সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, পাইলট এলাকার নিকাহ রেজিস্ট্রারদের ১০ দিনব্যাপী বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণ মডিউল প্রণয়ন, প্রশিক্ষক প্রস্তুত এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রশিক্ষণের ভেন্যু নির্ধারণে ব্র্যাক কারিগরি সহায়তা দেবে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে ডিজিটাল বিয়ে নিবন্ধনের গুরুত্ব ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতেও কাজ করবে সংস্থাটি।
পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয় হবে। চুক্তির মেয়াদ আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। প্রকল্প সফল হলে পাইলটের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সারাদেশে অনলাইন বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন প্রকল্প পরিচালক মো. আজিজুল হক ও ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচির পরিচালক শ্বাশ্বতী বিপ্লব।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ডিজিটাল পদ্ধতিতে বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন চালু হলে বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ, জাল বিয়ে সনদ এবং বিয়েসংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের জালিয়াতি রোধ করা সহজ হবে। একই সঙ্গে জনগণ দ্রুত বিয়ে ও তালাকের তথ্য যাচাই এবং ডিজিটাল সনদ পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এগিয়ে যেতে চাই। আমাদের সামনে যদি কোনো উদ্ভাবনী ধারণা আসে, সেটাকে আমরা গ্রহণ করে জনকল্যাণের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। এটাই আমাদের লক্ষ্য।’
তিনি বলেন, ব্র্যাক দীর্ঘদিন ধরে দেশের তৃণমূল পর্যায়ে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও নারীর অধিকার নিয়ে কাজ করছে। তাদের অভিজ্ঞতা ও বিশেষজ্ঞ জ্ঞান কাজে লাগাতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এমএম/